সাতক্ষীরার আবদুল আজিজ আম চষিদের মডেল

ছোট মুদি দোকান আর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দেড় বিঘা জমির ফসলের আয় থেকে সাতক্ষীরার সামটা গ্রামের আব্দুল আজিজের সংসার যেন আর চলে না। গ্রামের  বাজারের মুদি দোকান থেকে আর কতই বা আয় হয়। সারাদিন দোকানদারী করতে হলে মাঠে ফসল লাগানো আর হয়ে উঠে না। এদিকে সংসারের খরচ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সব মিলিয়ে আব্দুল আজিজের তখন কষ্টে দিন চলতে থাকে। এমন সময় একদিন সামটা বাজারে পিডিবিএফ শার্শা উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তার  সাথে তার পরিচয় হয় এবং পিডিবিএফ-এর কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন। আব্দুল আজিজ সমিতিতে সদস্য হওয়ার জন্য আগ্রহী হন। তাৎক্ষণিকভাবে আরও ১০-১২    জন দোকানদারকে ডেকে উপজেলা        দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। তারা সকলে আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে সমিতি গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ২০ জন সদস্য ৩ দিন প্রশিক্ষণ নেয়ার পর সমিতির যাত্রা শুরু হয়। আব্দুল     আজিজের নেতৃত্বে বর্তমানে সমিতির সদস্য সংখ্যা ৩৯ জন। বর্তমানে সমিতিতে তার ব্যক্তিগত সঞ্চয় প্রায় ৬ হাজার টাকা। আব্দুল আজিজ তার নিজের বা সমিতির কোন সদস্যের সমস্যা হলে পিডিবিএফ এর কর্মীদের সাথে যোগাযোগ  করে তা’ মিমাংসা করেন। সবজি চাষ, পশু পালন, মৎস্য চাষ বিষয়ে এমনকি স্বাস্থ্য সমস্যার ব্যাপারেও তিনি পিডিবিএফ-এর কর্মীগণের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। সমিতির সদস্যদের উন্নতি দেখে সামটা এলাকায় সমিতির সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে ঐ এলাকায় সমিতির সংখ্যা ১২টি।
আব্দুল আজিজ ৫ হাজার টাকা ও পরে ৮ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে তার মুদি দোকানে ব্যবহার করে ব্যবসাটা ভালভাবে চালু করেন। তিনি দেখলেন ছোট মুদি দোকানের আয় দিয়ে কোনভাবে দু-মুঠো ভাত খাওয়া চলবে, কিন্তু অন্য কিছু সম্ভব নয়। তাই তিনি মাঠের ছোট জমি হতে কিভাবে একটু বেশী আয় করা যায় সে ব্যাপারে ভাবতে থাকেন। এ বিষয়টি নিয়ে পিডিবিএফ এর কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ  করেন। তৃতীয় বারে ১২ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে  ঐ দেড় বিঘা জমিতে ১৮০টি আম্রপলি আমের গাছ লাগান। সাথে সাথী ফসল হিসাবে মূলার চাষও করেন। এসব করতে গিয়ে তার  খরচ  হলো ১০,৭০০ টাকা। মূলা বিক্রি থেকে ঐ সময় প্রায় ৮,৯০০ টাকা আয় হয়। মূলা চাষের পর বাগানে সাথী ফসল হিসাবে পটল চাষ করেন। এভাবে আম্রপলি বাগানে সাথী ফসল থেকে একদিকে যেমন মুনাফা অর্জন করতে থাকেন আম্রপলি বাগান থেকে দ্বিতীয় বছরে ২৯ হাজার টাকা, তৃতীয় বছরে ৪০ হাজার টাকা এবং চতুর্থ বছরে ৮৪ হাজার টাকার  আম   বিক্রি 
করেন। জমি চাষ, সার, কীটনাশক ঔষুধ ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ তার প্রায় অর্ধেক খরচ হয়। এ বছর তিনি প্রায় ১ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। আব্দুল আজিজ এ পর্যন্ত পিডিবিএফ শার্শা উপজেলা কার্যালয় হতে ৯৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করে নিয়মিত পরিশোধ করে যাচ্ছেন। গত বছরের আম্রপলি বাগানের আম বিক্রির আয় থেকে মেয়ের বিয়ের খরচ ও বাড়ীতে একটি সেনিটারী ল্যাট্রিন তৈরী করেছেন। আব্দুল আজিজের আম্রপলির বাগান দেখে সমিতির সদস্য ছাড়াও গ্রামের অনেকেই আমের বাগান করা শুরু করেছেন। সমিতির সদস্যদের কোন সমস্যা হলে তারা আব্দুল আজিজের কাছে পরামর্শ করার জন্য ছুটে আসেন। এলাকার সবার নিকট তিনি এক আর্দশে পরিণত হয়েছেন। আব্দুল আজিজ এখন পিডিবিএফ-এর ঋণ সহযোগিতা ও আম্রপলি বাগানের আয় থেকে ছেলের লেখা পড়া করানো এবং সুন্দর একটা বাড়ীর স্বপ্ন দেখেন। তিনি বলেন, পিডিবিএফ আমার জীবনে সফলতা এনে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.