দরিদ্র থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার কাহিনী

নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলা থেকে ৩ কিঃ মিঃ উত্তরে অবস্থিত সবুজপাড়া গ্রাম। এই গ্রামের এক দারিদ্র্য পরিবারের স্ত্রী ছিলেন ছামিনা বেগম। অভাব অনটন আর দুঃখ কষ্ট ছিল তার নিত্য সঙ্গী। এক সময়ে বসত বাড়ীটুকুও তার ছিল না। উপরন্তু স্বামী ছিলেন বেকার। সময় সময় দিন মজুরের কাজ করতেন তিনি। শত দুঃখ কষ্টের মধ্যদিয়ে তাদের দিন কাটছিলো। দারিদ্র্যের কষাঘাতে যখন তারা হিমশিম 
খাচ্ছিলেন, তখন সামান্য কিছু ঋণের টাকার জন্য তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু তার আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোন প্রতিষ্ঠান তাকে ঋণ প্রদানে আগ্রহ দেখায়নি। এই সময় তিনি জানতে পারলেন “পল্লী 
দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন” আত্ম কর্মসংস্থানের জন্য মহিলাদের ঋণ  দিয়ে থাকে। সমাজে অবহেলিত ছামিনা বেগম বাঁচার তাগিদে কূল কিনারা না পেয়ে পিডিবিএফ – এর মাঠ কর্মীর পরামর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে গ্রামের আরও কিছু অবহেলিত মহিলাদের নিয়ে “সবুজ পাড়া মহিলা সমিতি” নামে একটি সমিতি গঠন করেন। ছামিনা বেগম ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখা-পড়া করলেও তার বুদ্ধিমত্তা ছিলো প্রখর। তাই সমিতির সবাই তাকে সভানেত্রীর দায়িত্ব প্রদান করেন। এরপর থেকে কষ্টার্জিত টাকা থেকে তিনি কিছু কিছু সঞ্চয় করা শুরু করেন এবং প্রথম পর্যায়ে তিনি মাত্র ৩ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। গৃহীত ঋণের ১ হাজার টাকা তাঁর স্বামীকে দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করেন। ১ হাজার টাকা দিয়ে ৩টি ছোট ছাগল কিনে ওগুলো তিনি লালন পালন শুরু করেন। অবশিষ্ট ১ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেন হস্ত শিল্পের কাজ। স্বামীর ব্যবসার লাভের এবং নিজের কাজের টাকা থেকে ঋণের টাকা নিয়মিত পরিশোধ করেন।
ছামিনা বেগম বেত, বাঁশ, কাঠ দিয়ে বিভিন্ন ধরণের সৌখিন জিনিসপত্র তৈরী করে বাজারে বিক্রি করেন। এক বছর পর ব্যবসার লাভের টাকা ও পরবর্তীতে পিডিবিএফ থেকে ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে স্বামীর ব্যবসায় প্রসার ঘটাতে সহায়তা করেন। ছামিনা বেগম সর্বশেষ সমিতি থেকে ১৩ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। বর্তমানে সমিতিতে তার সঞ্চয় জমা প্রায় ১০ হাজার টাকা এবং গত ৫ বছর যাবত ১০০ টাকা করে সোনালী সঞ্চয় জমা করে আসছেন। 
দুঃখকে জয় করে এখন ছামিনা বেগম দিন দিন উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, যা দেখে এলাকার লোকজন মুগ্ধ এবং অনুপ্রাণিত। সমিতিতে ভর্তি হওয়ার পর হতে ব্যবসায় উন্নতির সাথে সাথে নিজের বসত বাড়ীর জন্য ১৪ কাঠা জমি ক্রয় করে সেখানে টিনের ঘর তৈরি করেছেন। এছাড়া তিনি এক বিঘা ধানী জমি কিনেছেন। পাশাপাশি এক বিঘা জমি বন্ধক নিয়ে বর্তমানে ইরি ধানের চাষ করছেন। তার  বর্তমান পুঁজি এক লক্ষ টাকার অধিক। তার একটি মাত্র ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে। ছামিনার এ  উন্নতির জন্য পিডিবিএফ-এর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানালেন, “আমি যতদিন বেঁচে থাকব পিডিবিএফ-এর জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করে যাব।” ছামিনার প্রত্যাশা তার হাতে তৈরি হস্তশিল্প একদিন বড় বড় শহরে বিক্রি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.